শহরের ব্যস্ত জীবনে বাইকের গুরুত্ব
বর্তমান সময়ে শহরের যানজটপূর্ণ রাস্তায় বাইক সবচেয়ে দ্রুত এবং কার্যকর যাতায়াতের মাধ্যম। অফিস, ব্যবসা, ডেলিভারি সার্ভিস কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বাইকের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু অনেকেই বাইক নিয়মিত ব্যবহার করলেও সঠিক সময়ে সার্ভিসিং করাতে অবহেলা করেন। এর ফলেই ধীরে ধীরে ইঞ্জিন পারফরম্যান্স কমে যায়, মাইলেজ কমে, এমনকি বড় ধরনের যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়।
আমাদের শপে সম্প্রতি এক গ্রাহক এসেছিলেন যিনি প্রায় ৮ মাস বাইক সার্ভিস করাননি। তার অভিযোগ ছিল বাইক স্টার্ট নিতে দেরি করছে এবং গতি আগের মতো পাচ্ছেন না।
সমস্যার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ
প্রথমে আমরা বাইকের সম্পূর্ণ চেকআপ করি। দেখা যায় ইঞ্জিন অয়েল অনেক পুরনো, এয়ার ফিল্টার ধুলাবালিতে ভর্তি, চেইন ঢিলা এবং স্পার্ক প্লাগ কার্বন জমে কালো হয়ে গেছে। এছাড়া ব্রেক প্যাডও অনেকটা ক্ষয়প্রাপ্ত ছিল।
এই ধরনের সমস্যা সাধারণত নিয়মিত সার্ভিসিং না করালে দেখা যায়। ছোট সমস্যা সময়মতো ঠিক না করলে বড় খরচে রূপ নেয়।
সার্ভিসিং প্রক্রিয়া
আমরা প্রথমে পুরনো ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করি এবং কোম্পানি রিকমেন্ডেড গ্রেডের নতুন অয়েল ব্যবহার করি। এরপর এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার বা প্রয়োজনে পরিবর্তন করা হয়। স্পার্ক প্লাগ পরিষ্কার করে ঠিকভাবে সেট করা হয়। চেইন অ্যাডজাস্টমেন্ট এবং লুব্রিকেশন করা হয়।
ব্রেক প্যাড চেক করে প্রয়োজনে নতুন প্যাড বসানো হয়। শেষে পুরো বাইক টেস্ট রাইড করে নিশ্চিত করা হয় সবকিছু ঠিক আছে।
সার্ভিসিং পরবর্তী পরিবর্তন
সার্ভিসিং শেষে গ্রাহক নিজেই পার্থক্য অনুভব করেন। বাইক স্টার্ট একবারেই নিচ্ছিল, ইঞ্জিন সাউন্ড আগের তুলনায় অনেক স্মুথ হয়ে যায় এবং পিকআপও ভালো হয়। তিনি জানান, অনেকদিন পর বাইক চালাতে স্বস্তি পাচ্ছেন।
নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের উপকারিতা
নিয়মিত সার্ভিসিং করলে ইঞ্জিনের আয়ু বাড়ে, মাইলেজ ঠিক থাকে, ব্রেকিং সিস্টেম নিরাপদ থাকে এবং হঠাৎ রাস্তায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। এছাড়া বড় খরচের সম্ভাবনাও অনেক কমে যায়।
আমাদের পরামর্শ হচ্ছে প্রতি ২০০০-৩০০০ কিলোমিটার পরপর একবার বেসিক সার্ভিস করানো উচিত।